Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / নওশাদ আতাউল কাইয়ুম: আকাশে ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়া বিমানের পাইলট মারা গেছেন

নওশাদ আতাউল কাইয়ুম: আকাশে ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়া বিমানের পাইলট মারা গেছেন

স্যালুট ক্যাপ্টেন নওশাদ

ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে ১২২ যাত্রী নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় আসছিল বিমানের একটি বোয়িং ৭৩৭ ফ্লাইট। মাঝপথে পাইলট হঠাৎ করে ভীষণ অসুস্থ বোধ করলেন। এরপর কোপাইলট বার্তা দেন কাছের কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে। তারা নিকটবর্তী নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পরামর্শ দেন।

এরপর বিমানটি জরুরি অবতরণ করেন কো-পাইলট। যাত্রীরা সবাই সুরক্ষিত আছেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে পাইলটকে হাসপাতালে নিতে হয়।গত তিনদিন সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গতকাল অবস্থা খারাপ হয়। এরপর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মধ্য আকাশে থাকার সময় হার্ট অ্যাটাক করা সেই আলোচিত পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম মারা গেছেন।

ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অসুস্থ হওয়ার ৩ দিন পর ভারতের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

আজ সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপটেন মাহবুবুর রহমান। গতকাল তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যাপ্টেন নওশাদ ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর ক্যাপটেন নওশাদ কাইয়ুমের ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে মেডিকেল টিম সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে গত শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহেরা খন্দকার বলেছিলেন, আকাশে বসে অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই পাইলট কাইউম কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময়ে তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন। কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে তার নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে অবতরণ করান। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটির ১২৪ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই নিরাপদে ছিলেন।

জরুরি অবতরণের পর পাইলট নওশাদকে নাগপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার এনজিওগ্রাম করা হয় বলেও জানান তাহেরা খন্দকার।

বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, নওশাদ আতাউল কাইউম একজন দক্ষ পাইলট। কার্ডিয়াক এরেস্ট হওয়া সত্ত্বে তিনি দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তার প্রেসার হাই হয়ে যাওয়ায় মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে।

জেনে অবাক হবেন, পাইলট নওশাদ ভীষণ আজীবন দায়িত্বশীল মানুষ। তার বাবাও পাইলট ছিলেন। বাবার পথ অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উড়ে বেড়িয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। বাবা চলে গেছেন চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে, এবার পাড়ি জমালেন তিনিও।

তবে দায়িত্ব পালনকালে আজীবন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে দেড়শ মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সহ পাইলট। তাও এই মাসকট থেকেই। সেবার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল।

About Muktopata

Check Also

টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে নদীর স্রোতে ভেসে গেল ছাত্র

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। …