Breaking News
Home / বিনোদন ও লাইফ স্টাইল / হাত নেই ও পা নেই উপুড় হয়েই নামাজ এবং কোরআন পড়ে ছেলেটি

হাত নেই ও পা নেই উপুড় হয়েই নামাজ এবং কোরআন পড়ে ছেলেটি

মাত্র ১৫ বছরের একজন কিশোর। হাত-পা নেই তার। গড়িয়ে গ”ড়িয়ে চলাফেরা করে সে। আর এভাবেই উপুর হয়ে শুয়ে না”মাজ এবং কোরআন পড়ে ছেলেটি। হা”জারো বাঁধা বিপত্তির সম্মু”খীন হয়েও কোরআন শিক্ষা

নিতে ভুলেনি সে। তার নাম টিও সাতরিও। পরিবারের সঙ্গে সে বসবাস করে। জন্ম”গতভাবেই টিও হাত-পা বিহীন। তার মতে, হাত-পা থাকলে আমি বাবা মাকে সাহায্য করতে পা”রতাম। কোরআন শিক্ষার জন্য নিজেই স্কুলে যেতে পারতাম। আমার শিক্ষকদেরকে বাড়ি বয়ে এসে নিয়ে যেতে

হতো না।গড়িয়ে চলাফেরা করে সে ছোট্ট এই কিশোরের স্বপ্ন ছিল পুলিশ অফিসার হওয়ার। টিও বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা থাকলে আমি অ”বশ্যই তা হতে পারতাম। তবে শারীরিক প্রতি”বন্ধকতার কারণে তা আর সম্ভব নয়। তাই সেই স্বপ্ন আর দেখি না।

কিছু কাজ আছে যেগুলো আমি করতে পারিনা। যেমন- একা খেতে পারিনা, গোসল এমনকি কাপড় পরতেও পারিনা।

তবে আমি মুখ দিয়ে লিখতে পারি। লেখাপড়া এ”মনকি ভিডিও গেম খেলতেও পছন্দ করি আমি।ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। হয়ত ভাব”ছেন হাত পা ছাড়া আমি কীভাবে খেলি? মাঝে মাঝে মুখ দিয়েই আমি বল খেলি। আর ভিডিও গেম খেলার সময় চিবুক এবং কাধের সাহায্য নিতে হয়।

অন্যান্যদের মতো আমিও স্মার্ট ফোন ব্যবহার করি। এমনকি ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ সবই ব্যবহার করি আমি। ঠোঁটের সাহায্যে ফো”ন চালায় আমি।ভিডিও গেইম খেলে সে টিও’র মা মিমি বলেন, তাকে খাওয়ানো এবং দেখভালের সব দায়িত্বই আমি পালন করি। আর গোসল এবং কাপড় পরায়

তার বাবা। ভিডিও গেইমের প্রতি তার আকর্ষণ অ”নেক। এছাড়াও তার মেধার প্রশংসা স্বয়ং স্কুলের প্রিন্সিপাল পর্যন্ত করেন। গণিতে বেশ দক্ষ সে। টিওকে নিয়ে আমি সত্যিই গর্বি”ত।আমার মোট তিনটি সন্তান। টিওর বড় ভাই বোনেরা স্বাভাবিক একটা সুস্থ। তবে সে শা”রীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম নেয়। প্রথমে তার ভবিষ্যৎ

নিয়ে ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। বর্তমানে সত্যিই আমি টিওর জন্য অনেক গর্বিত। সে আ”মাদের জন্য সৌভাগ্যের। মুখ দিয়েও সুন্দর করে লিখতে পারে আমার ছেলে। তার গুণের শেষ নেই। আমরা তাকে স্বাভাবিক মানুষই ভাবি।মা”য়ের সঙ্গে টিও আমার জীবন অনেক কঠিন টিও অনেকটা গম্ভীর সুরে বলছিলেন। মাঝে মাঝে হতাশ

হয়ে পড়ি। তবে আমার স্কুলের প্রিয় বন্ধু এবং সহপাঠি টেন্ডিকে দেখে আমি নতুনভাবে বাঁচছি। সেও এক প্র”তিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছে। সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানুষ হয়েও অসম্পূর্ণ। কারণ সে কানে শোনে না। অথচ আমি কথাও বলতে পারি আবার কানেও শুনি। তাই টেন্ডিকে দেখলে নিজের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়।

মুখ দিয়েই লেখে সে টেন্ডি কানে না শুনলেও সব”কিছুই শিখতে এবং জানতে চায়। আমরা দু’জনই একে অপরকে সাহায্য করি। সে হয়ে উঠেছে আমার হাত আর আমি হলাম তার কান। এতো দিনে বুঝেছি আমাকে ল”ড়তে হবে। আশা হারালে চলবে না। সবাইকে বলছি, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। হাল ছাড়বেন না, হতাশ হবে না।

শারী”রিকভাবে আমি অক্ষম হলেও আমি নিজেকে সেভাবে ভাবি না। কারণ আমি আমার জীবন, প্রার্থনা এবং নিরন্তর লড়া”ইয়ের মাধ্যমে কিছু একটা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।সূত্র:বিবিসি

About Muktopata

Check Also

বাড়ির ছাঁদে নববধূর সাজে দুর্দান্ত নাচ সুন্দরী যুবতীর, নেটদুনিয়ায় প্রশংসার ঝড়

ইন্টারনেটের যুগে সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ভাইরাল শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর থেকে মানুষের …