Breaking News
Home / ইসলাম / দেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় যে মসজিদ থেকে

দেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় যে মসজিদ থেকে

দেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় যে মসজিদ থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহন করেন খ্রিস্টিয় ৫৭০ সালে। এর মাত্র ৫০ বছর পর ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে আসে ইসলাম!আর উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে শুরু হয় যাত্রা!

বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাপ্ত শিলালিপি এমন দাবিই জোরালো করেছে। এতে আরও দেখা যায়, ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে দেশের প্রথম মসজিদটিও নির্মিত হয় এই জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদের আড়া’ নামক গ্রামে।

১৯৮৭ সালে পঞ্চগ্রামে জঙ্গল খননের সময় প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এর একটি ইটে কালেমা তাইয়্যেবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হয়, মসজিদটি হিজরি ৬৯ অর্থাৎ ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে স্থাপন কিংবা সংস্কার করা হয়।

রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.)-এর মামা, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)। অনেকে অনুমান করেন, পঞ্চগ্রামের মসজিদটিও তিনি নির্মাণ করেন যা ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার করা হয়।

দেশের প্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। মসজিদের ভিতরে রয়েছে একটি কাতারের জন্য ৪ ফুট প্রস্থ জায়গা। মসজিদের চার কোণে রয়েছে অষ্টকোণ বিশিষ্ট স্তম্ভ। ধ্বংসাবশেষ থেকে মসজিদের চূড়া ও গম্বুজ পাওয়া গেছে।

মতিউর রহমান বসুনিয়া রচিত ‘রংপুরে দ্বীনি দাওয়াত’ গ্রন্থেও এই মসজিদের বিশদ বিবরণ আছে।

‘দেশে ইসলাম প্রচার করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন খিলজী’ এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত থাকলেও এসব তথ্য প্রমান করে যে, এর অনেক আগেই এদেশে ইসলাম প্রচারিত হয়। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন খিলজীর বাংলা বিজয়ের প্রায় ৬০০ বছর আগেই সাহাবীদের দ্বারা বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়। প্রথম মসজিদও নির্মিত হয় সেই সময়েই।

আরও পড়ুন

আরো পড়ুন: আমিরাতে বিগদত৬ মাসে দুই হাজারের বেশি ইসলাম গ্রহণ !

আরব আমিরাতে ছয় মাসে দুই হাজারের বেশি লোক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামের শিক্ষায় আকৃষ্ট হয়ে দেশটিতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা মুসলিম হন। দুবাই ভিত্তিক সংস্থা মুহাম্মদ বিন রাশিদ সেন্টার ফর ইসলামিক কালচারাল চলতি বছরের এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানায়।

খবর খালিজ টাইমসের। খবরে জানা যায়, আমিরাতের সরকারি পরিসংখ্যানে মতে ২০২১ সালের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত দুই হাজার ২৭ জন ইসলামিক সেন্টারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কালেমা শাহাদাহ পাঠ করেছেন।

দুবাইয়ে অবস্থিত ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল এক্টিভিটিজ (আইএসিএডি)-এর তত্ত্বাবধানে নওমুসলিমদের ইসলামের উদার মনোভাব শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদেরকে ইসলামিক সেন্টােরের পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজ, শিক্ষা ও ধর্মীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। নওমুসলিমদের ইসলামের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উদার মনোভাবের প্রসারে কাজ করে থাকে দুবাই ভিত্তিক এই সংস্থাটি।

এছাড়াও ইসলামের মূল শিক্ষা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেন্টার ফর ইসলামিক কালচারাল-এর পরিচালক হিন্দ মুহাম্মদ লুতাহ বলেন, ‌‌‘ইসলামিক কালচারাল সেন্টার দুবাইয়ে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে ইসলামী মূল্যবোধ প্রসারে কাজ করে।

এক্ষেত্রে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধার ব্যবহার করা হয়। নিউ মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেকশনের প্রধান হানা আল জাল্লাফ জানান, ইসলামিক সেন্টার উন্নত কর্মপন্থার আলোকে ইসলামী সংস্কৃতি, মধ্যপন্থা ও সহনশীলতার মূল্যবোধ প্রচার করে।

সেন্টারের প্রশিক্ষণের কারণে দুবাইয়ের দুই হাজার বাসিন্দা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। আল জাল্লাফ আরো জানান, কেউ ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে কিংবা ইসলামে দীক্ষিত হতে চাইলে সেন্টারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহায়তা করা হয়। কেউ চাইলে ৮০০৬০০০ নাম্বারে ফোন করতে পারে।

তাছাড়া ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল এক্টিভিটিজ (আইএসিএডি)-এর ওয়েবসাইটে সহজেই সবকিছু জানা যায়।

সূত্র : খালিজ টাইমস

আরো পড়ুন: যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন কোরিয়ান অভিনেত্রী !

আধুনিক বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হলেন কোরিয়ান অভিনেত্রী আয়ানা মুন। ২০১০ সালে তিনি ইসলামগ্রহণ করেছিলেন। অনেক বছর আগে ইসলামগ্রহণ করলেও দীর্ঘ দশক পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

মুসলিম নারীদের ফ্যাশন মডেল আয়ানা মুন ১৯৯৫ সালে কোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মুসলিম অভিনেত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ শুরু করেন।

একজন হিজাবি মডেল ও সমাজকর্মী হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়ান আয়ানা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর ৩০ লাখ ফলোয়ার। মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় বিনোদন জগতের একজন তারকা হিসেবে খ্যাতি আছে তাঁর।

তাছাড়া মুসলিম নারীদের ফ্যাশন মডেল হিসেবেও কাজ করেন তিনি। পরিবারের মধ্যে আয়ানা-ই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। কৈশোর না পেরোতেই মুসলিম হিসেবে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর ভাই আদিয়ান মুন ইসলামগ্রহণ করেন।

ইনস্টাগ্রামে নিজের ইসলামগ্রহণের গল্প বর্ণনা করেন আয়ানা। একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, মাত্র ৭-৮ বছর বয়সে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তখন পর্যন্ত আমেরিকা সম্পর্কে জানা থাকলেও ইরাক সম্পর্কে জানাশোনা ছিল না।

ওই সময় তিনি প্রথম বারের মতো ইন্টারনেট ব্যবহার সুযোগ পান। ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে ইরাকের অবস্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা চেষ্টা করেন। তখনই প্রথম ইরাকের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন বলে জানতে পারেন। আয়ানা জানতে পারেন যে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম।

ইসলাম মানুষকে সুন্দর জীবন গঠনের নির্দেশনা দেয়। এছাড়াও অনুসন্ধানকালে হিজাবি নারীদের অনেক ছবি দেখতে পান। নারীরা নিজেদের মুখ ঢেকে রাখছে দেখে তিনি কিছুটা বিস্মিত হন। অবশ্য তার দাদা তখন তার সঙ্গে ইসলাম ও হিজাব নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রথম দিকে হিজাবের বিষয়টা তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। এরপর থেকে নারীর মুখ ও সৌন্দর্য ঢেকে রাখার মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তাঁর মত পরিবর্তন করেন এবং ইসলামী জীবনাচারে মুগ্ধ হন। তখনই তিনি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এরপর থেকে তাঁর পরিচিত বিভিন্ন সেলিব্রেটি ও ব্যক্তিদের সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান শেয়ার করেন। তখন তিনি ইসলামের জীবনবিধান ও অন্যান্য বিষয়াবলি জানার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

আরো পড়ুন: রেডিওতে শুনে শুনে কোরাআনের হাফেজ হলেন ফিলিস্তিনের মরু রাখাল সালামাহ আলি !

সালামাহ আলি ফিলিস্তিনের মরুভূমিতে বাস করেন। তিন একজন মরু রাখাল। মরুর বুকে ছাগল চড়িয়ে বেড়ান। আর এই ছাগল চড়াতে চড়াতে রেডিওতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত শুনতেন।

এদিকে কয়েক বছর যাবৎ এভাবে রেডিও শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেছেন সালামাহ। বয়স ৬০ পেরোলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন আত্মস্থ করেছেন তিনি।

সে ঘটনা জানুন তার নিজের বর্ণনায়। এ ব্যাপারে আলহাজ সালামাহ বলেন, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় পবিত্র কোরআন হেফজ শুরু করার চার বছর পর তা সমাপ্ত হয়। কারণ আমাদের এলাকায় কোনো হাফেজ কিংবা হেফজখানা নেই। হেফজের সময় পেছনের পাঠ পুনরায় পড়া খুবই জরুরি।

নতুবা পঠিত সবকিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে রেডিওতে কোরআন শোনার ব্যবস্থা আমাকে অনেক বেশি সহায়তা করে। রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াতের সময় সম্পর্কে আমি জানতাম। তখন আমিও তাদের সঙ্গে শুনে শুনে কোরআন পাঠ করতাম। এভাবে তা শুনতে শুনতে আমার বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শেখা হয়ে যায়।

তার ভাষায়, আমি মূলত নিজের ছাগল চড়ানোর সময় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শুনতাম। এভাবে আমি তাজবিদের সব রীতি-নীতি আয়

About Muktopata

Check Also

গণিতের শিক্ষক থেকে কাবার ইমাম

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহির বিন হামাদ আল মুআকলির …