Breaking News
Home / খেলাধুলা / স্বার্থের সংঘাতে পিষ্ট বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। জানিয়ে দিলেন সাকিবের শেষ পরিনতি

স্বার্থের সংঘাতে পিষ্ট বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। জানিয়ে দিলেন সাকিবের শেষ পরিনতি

ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি দেশের শীর্ষ তিন জনপ্রিয় খেলার প্রিমিয়ার লিগ মানেই আম্পায়ারিং ও রেফারিং নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। খুব কম মৌসুমই গিয়েছে রেফারিং,আম্পায়ারিং অভিযুক্তহীনভাবে টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। একেক সময় একেক ক্লাবের দাপট। যাদের প্রভাব বেশি তাদের বিরুদ্ধে হয় না আউট, হয় না গোলও। প্রয়োজনে বদলে যায় লিগের বাইলজ, ফিকশ্চার। সময়ের সঙ্গে ক্লাব ও ক্লাব কর্তার চরিত্রে বদল এলেও; ঘটনা থেকে যায় একই। অনেকটা জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের মতোই চলছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এ রীতি।

ফেডারেশন অথবা বোর্ডে যে ক্লাবের প্রভাব যখন বেশি সেই ক্লাবের পক্ষেই রেফারির বাঁশি ও আম্পায়ারের আঙুল ওঠা-নামা করতে দেখা যায় অনেক সময়। ফেডারেশন ও বোর্ড কর্তাদের অধিকাংশই শীর্ষ ক্লাবের নীতি নির্ধারক। তারা দেশের নিজ নিজ খেলার সর্বোচ্চ সংস্থায় থাকলেও ক্লাব স্বার্থের উর্ধ্বে খুব একটা উঠতে পারেন না। ফলে সেখান থেকেই মূলত জন্ম হয় প্রশ্নবিদ্ধ রেফারিং ও আম্পায়ারিং। আম্পায়ার, রেফারিরা নিজেদের ম্যাচ প্রাপ্তি, ফি, উন্নতির কারণে অনেকটা বাধ্য হন ঊর্ধ্বতনদের আদেশ মানতে। যারা বেশি আজ্ঞাবহ ও আস্থাভাজন তারা আবার বিশেষ ক্লাবের ম্যাচে বাঁশি বাজান, আম্পায়ারিং করেন।

হাল আমলে ক্রিকেট বোর্ডে আবাহনী ঘরণার কর্মকর্তাই বেশি। ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নিজেও আবাহনীর পরিচালক। একাধিক পরিচালক রয়েছেন যারা সরাসরি যুক্ত আবাহনীর সঙ্গে। এদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে খালেদ মাহমুদ সুজনকে নিয়ে। সে একাধারে বোর্ড পরিচালক আবার আবাহনী ক্লাবের কোচ।

আবাহনী কাগজে-কলমে সেরা দলই গড়ে ক্রিকেটে এরপরও আম্পায়ারিং সুবিধা নেওয়ার প্রশ্ন উঠে প্রায়ই। পক্ষপাত মূলক আম্পায়ারিংয়ের অভিযুক্ত অধিকাংশ ম্যাচই আবার আবাহনীর । চলতি মৌসুমে ৭ ম্যাচে আবাহনীর কোনো ব্যাটসম্যান এলবিডব্লিউ আউট না হওয়া সেই অভিযোগের তীরকে আরও বেগবান করে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে এ রকম আরও অনেকে অভিযোগ ও মিডিয়া রিপোর্ট হলেও বোর্ড দেখেও না দেখার মতো অবস্থা।

কারণ এক বোর্ড পরিচালকই তো স্বয়ং আবাহনীর কোচ আবার শীর্ষ ও প্রভাবশালী কর্তাদের অধিকাংশই আবাহনীর। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ পরিচালিত হয় সিসিডিএমের মাধ্যমে। বর্তমান সিসিডিএম চেয়ারম্যানও আবাহনীর পরিচালক। আবাহনীর আরও দুই পরিচালক ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। তাদের আমলে প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর পক্ষপাতিত্ব নিয়ে এত অভিযোগ হয়নি।

গত কয়েক বছর ধরে ক্রিকেটে আবাহনীর বিরুদ্ধে যে পক্ষপাতের অভিযোগ এর আগে ভিন্ন ভিন্ন সময় এমন অভিযুক্তের কাঠগড়ায় ছিল ওল্ডডিওএইচএস, কলাবাগান, ভিক্টোরিয়া, মোহামেডানসহ আরও অনেক ক্লাব। ক্লাবগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও থাকে।

দেশের আরেক শীর্ষ ও জনপ্রিয় ক্লাব মোহামেডানের আগের সেই দাপট নেই। এখন কিছুটা আবাহনীর ছায়া হয়েই রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। সেই মোহামেডানেও চলমান ক্রিকেট লিগে জন্ম দিয়েছে স্বার্থের সংঘাত। জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুসহ আরো কয়েকজন নির্বাচককে ক্লাবের টেকনিক্যাল কমিটিতে রেখেছে। এটাও স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ ।

দেশের আরেক জনপ্রিয় খেলা ফুটবলেও একই চিত্র। সেখানেও অনেকদিন আবাহনীর সুজনের মতো আলোচনায় ছিলেন সত্যজিৎ দাস রুপু। যিনি আবাহনীর ম্যানেজার, ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য আবার জাতীয় দলের ম্যানেজারও ছিলেন। রুপুর এই দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছেন বাফুফের সহ সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান। যিনি আবার আবাহনীর অন্যতম পরিচালক (এখন ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ)।

ফুটবলে মূলত কোচই দল নির্বাচন করেন এরপরও প্রভাবশালী ক্লাবের ম্যানেজার জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দল নির্বাচন নিয়ে উঠত প্রশ্ন। ক্রিকেটে সুজন আবার দুই ভুমিকায়। আবাহনীর কোচ থাকলেও জাতীয় দলে আবার ম্যানেজার। একজন জাতীয় দলের ম্যানেজার যখন ক্লাবেরও কোচ, ম্যানেজার থাকেন এর চেয়ে তো স্বার্থের সংঘাতের বড় উদাহরণ আর হয় না৷ এখানেই শেষ না, ২০১৩ সালের দিকে মোহামেডানের ফুটবল কোচ জাতীয় দলেরও দায়িত্বে ছিলেন। কোন ফুটবল কোচ একাধারে ক্লাব ও জাতীয় দলে থাকতে পারে এমন বিরল ঘটনা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব।

ক্রিকেট প্রিমিয়ার লিগে বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে সুজনই একমাত্র সরাসরি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবের কোচিংয়ে জড়িত ও মাঠে থাকেন। ফুটবল ফেডারেশনে একাধিক কর্মকর্তা লিগ ম্যাচে ক্লাবের ম্যানেজারের পরিচয়ে ডাগআউটে দাঁড়ান। এখানেও অভিযোগ উঠে রেফারিং প্রভাবিত হওয়ার। ফুটবলে এতদিন যিনি এই বিষয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন ব্রাদার্সের আমের খান।

তিনি ফেডারেশনের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আরও এক ধাপ এগিয়েছেন। ম্যানেজাররা ডাগআউটে থাকলেও তিনি কোচের অনুপস্থিতিতে ট্যাকনিক্যাল এরিয়া থেকে কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

হকিতে পরিস্থিতি আরও করুন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদিত নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদককে সরে যেতে হয় কয়েকটি ক্লাবের দাবিতে। ফলে লিগ হয় অনিয়মিত। আবার অনিয়মিত লিগ যখন শুরু হয় তখন আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলতে থাকে ক্রমাগত প্রতিবাদ। হকিতে দেশীয় আম্পায়ার নিয়ে আস্থার সংকট থাকায় মাঝে মধ্যে লিগ চালাতে বিদেশ থেকে আম্পায়ার আনা হয়।

ফুটবল, ক্রিকেট, হকিতে যখন এই অবস্থা অন্য খেলার স্বার্থের সংঘাত বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে হ্যান্ডবল,কাবাডিতে একই ব্যক্তি কোচ, আম্পায়ার আবার ফেডারেশন কর্তাও। জাতীয় খেলা কাবাডির কোর্ট ২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসে রক্তের বন্যা বয়েছিল শুধু আম্পায়ারিংয়ের পক্ষপাতের জন্যই।

স্বার্থের সংঘাত শুধু ক্লাব-ফেডারেশন নয়, ফেডারেশন টু ফেডারেশন, ক্লাব টু ক্লাবও রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই ততোধিক ফেডারেশন ও একাধিক ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। ফলে স্বার্থের সংঘাত ভিন্ন ভিন্ন রুপে আসে। এই স্বার্থের সংঘাতের প্রভাব পড়ে জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে। ঘরোয়া পর্যায়ে আম্পায়ারিং ও রেফারিংয়ে ছাড় পেয়ে আসলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা পান না।

এর ক্ষুদ্র উদাহরণ গত কয়েক বছর আবাহনীর হয়ে খেলা তরুণ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। যারা অনেক প্রতিভাবান হয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন না।

About Muktopata

Check Also

বিদায় নিয়েও গোল্ডেন বুট পাচ্ছেন রোনালদো!

ইউরো কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। বেলজিয়ামের কাছে হেরে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ায় ক্রিস্টিয়ানো …