Breaking News
Home / লাইফ স্টাইল / শরবত বেচে সুখে আছেন মাজেদ-সালমা মুন্সিগঞ্জ, রোববার, ৩০ মে ২০২১

শরবত বেচে সুখে আছেন মাজেদ-সালমা মুন্সিগঞ্জ, রোববার, ৩০ মে ২০২১

কাচের গ্লাসে লেবু চিপে মাজেদ এগিয়ে দেয় সালমার কাছে, সালমা গ্লাসে লবণ আর পানি মিশিয়ে শরবত বানিয়ে তুলে দেন ক্রেতাদের হাতে। দিনভর দু’জনে মিলে এভাবেই বিক্রি করেন লেবু-পানির সরবত। প্রচণ্ড রোদে সে শরবত খেয়ে তৃষ্ণা মেটায় যাত্রীরা।

প্রতি গ্লাস ৫ টাকা। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে পাঁচ বছরের ছেলে আর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চলে তাদের সংসার। নিম্ন আয়ের মানুষ হলেও অপরূপ বন্ধন আর পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে চলছে এই দম্পতির জীবন-জীবিকা। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ৩নং ফেরিঘাটের সামনে মাজেদ-সালমার শরবতের দোকান।

সোমবার (২৪ মে) দুপুরে ফেরিঘাটে দেখা হয় তাদের সঙ্গে। প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে একটি বড় সাইজের ছাতার নিচে কাঠের টেবিলের দু’পাশে দাঁড়িয়ে দু’জন। টেবিলে সাজানো পানির ফিল্টার, একঝুড়ি লেবু, একটি লেবু চিপার কাঠের যন্ত্র, একটি ছুরি আর গোটা ছয়েক কাচের গ্লাস।

শিমুলিয়াঘাট থেকে ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটছে বাংলাবাজার ঘাটে। আবার বাংলাবাজার ঘাট থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা আসছেন শিমুলিয়াঘাটে। এ যাত্রীরাই মাজেদ-সালমার শরবতের ক্রেতা।

মাজেদ আগে শরবতের দোকানদার ছিলেন না। ছিলেন একটি কসমেটিকের দোকানে সেলসম্যান। করোনায় সে দোকান বন্ধ হওয়ায় ভাগ্যের ফেরে বছরখানেক আগে হারায় চাকরি। জীবিকার উপায়ন্তর না পেয়ে শরবত বিক্রি শুরু করেন। এসবের পরও সবসময় পাশে আছে স্ত্রী সালমা। শিমুলিয়াঘাটের পাশেই তাদের বাড়ি।

জাগো নিউজকে মো. মাজেদ বলেন, ‘করোনার মধ্যে পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে দু’জন খুব অভাবে দিন কাটছিল, কি করুম ইনকামের কোনো রাস্তা নেই। যেটা করে চলতাম সেটা তো বন্ধ।

শেষমেশ শরবতের দোকান দেই। সালমা আমাকে প্রতিদিন সহযোগিতা করে। কোনো কাজই ছোট নয়। এখন যা আয় হয় খারাপ না ভালোই, আমরা চলতে পারি। ভালোভাবেই এখন আমাদের সংসার চলছে।

দিনে কোনো দিন ২ হাজার, কোনো দিন ১ হাজার আবার কোনো দিন ৫০০ টাকা থাকে। লোক সংখ্যা বেশি হলে ৩-৪ হাজার টাকাও হয়। আমি লেবু চিপে দেই, সে লবণ, পানি দিয়ে সরবত তৈরি করে ক্রেতাদের কাছে দেয়।’

‘দুজন মিলেমিশে কাজ করছি খুব ভালো লাগে, সব সময় মিলেমিশে থাকি। কাজের মাঝে একে অন্যের সাথে কথাবার্তা বলি, হাসির কথা বললে ও হাসে। এভাবেই সময় কেটে যায়। আমরা গরিব, টাকা না থাকতে পারে তয় ভাই আমরা অনেক সুখী। এভাবে চলতে থাকলে আপাতত এ ব্যবসাই করব।’

সালমা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন দুপুরে প্রচণ্ড রোদ ওঠে, কিন্তু রোদের মধ্যেও খারাপ লাগে না। ধর্মীয় বিধান মেনে বোরকা পরে কাজ করি। ছেলেকে আম্মার (শাশুড়ি) কাছে রেখে আসি। নিজেদের কর্ম নিজেরা করে খাইতাছি। এখানে বলার কেউ নাই। স্বাধীনভাবে কাজ করছি এটিই ভালো লাগে। সে (মাজেদ) তো একা পারে না, তারে একটু সহযোগিতা করছি। তারে সহযোগিতা করতে পারায় আমার ভালো লাগছে।’

পাশের দোকানদার হাকিম মিয়া বলেন, ‘কোটি কোটি ট্যাকা থাকার পরও পৃথিবীর সেরা বড়লোকগো ঘর টিকে না, বড় বড় সুপারস্টারগো ঘর ভাইঙা যায়। আসলে ট্যাকাই আসল সুখ না।

তাগো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল নাই। ওরা (মাজেদ-সালমা) গরিব মানুষ, তারপরও ওগো মধ্যে অনেক মিল। টাকা-পয়সা এক বিষয়, মিল মহাব্বত সুখ আরেক বিষয়। তারা অনেক দিন ধরেই এখানে শরবত বেচে। দুজন একলগেই থাকে। আমাগো দেখতেও ভালো লাগে।’

About Muktopata

Check Also

চোখের পানিতে শেষ বিদায় প্রিয় মাহুতকে, আবেগঘন ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

মানুষে-মানুষে বন্ধুত্বে তৈরি হয় নানা নজির। জন্ম নেয় আলোচনার। এই বাইরেও ভিন্ন কিছু সম্পর্ক, বন্ধুত্ব …