Breaking News
Home / আবহাওয়া / বাংলা টার্গেট করেই ধেয়ে আসছে ইয়াস

বাংলা টার্গেট করেই ধেয়ে আসছে ইয়াস

ঘূর্ণিঝড় অতি তীব্র, বার্তা মৌসম ভবনের। বাংলা টার্গেট করেই ধেয়ে আসছে ইয়াস (Cyclone Yaas)। কোথায় আছড়ে পড়ে এই সাইক্লোন? কী আপডেট দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর?

এই সময়: একে করোনায় রক্ষা নেই, ইয়াস দোসর! বছর না-ঘুরতেই আবারও একটা ঘূর্ণিঝড়ের টার্গেট বাংলা। ঠিক কোন জায়গায় ঘূর্ণিঝড়ের ‘ল্যান্ডফল’ হবে, সেই বিষয়েও এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন আবহবিদরা।

কিন্তু সেটা যে বাংলারই উপকূলবর্তী কোনও এলাকা হবে, তা নিয়ে সংশয়ের আর অবকাশ নেই বলে তাঁদের দাবি। মৌসম ভবন জানাচ্ছে, ২৫ মে থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পালা শুরু হবে। পর দিন অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আছড়ে পড়বে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়।

তবে সেটা পূর্ব মেদিনীপুর না উত্তর বা দক্ষিণ ২৪ পরগনা – সম্ভাব্য এলাকার নাম জানা যাবে আরও কিছু সময় পর। তবে বুধবার দুপুরের আগেই পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিবেগে ঝড় বইতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই ঝড়ের দাপট আরও বাড়বে।

ভারতীয় আবহবিদদের আশঙ্কা সত্যি প্রমাণ করে শনিবারই পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। এ দিন দুপুরে মৌসম ভবন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই নিম্নচাপ ক্রমশ অতি গভীর নিম্নচাপ হয়ে ইয়াস নামে ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেবে আগামিকাল, সোমবার নাগাদ। মঙ্গলবারের মধ্যেই তা অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তার পর এগিয়ে যাবে বাংলার উপকূলের দিকে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের মধ্যেই সুপার সাইক্লোন উম্পুনের ক্ষত স্মৃতিতে এখনও তাজা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি দেখছে বাংলা। এমন পরিস্থিতিতে ‘আশার কথা’ একটাই। উম্পুন কলকাতা শহর পেরিয়েছিল প্রায় ১১৪ কিমি/ঘণ্টা গতিতে। উপকূলে গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার।

কিন্তু ‘ইয়াস’ ততটা শক্তিশালী হওয়ার সময় পাবে কি না, সে দিকেই নজর রাখছেন আবহবিদরা। সময় কম পেলে ‘বাহুবলী’ হওয়ার সুযোগ পাবে কম, তাতে বাংলারই লাভ।

কিন্তু সেই ‘লাভ’ মিলবে কি? আবহবিদরা জানাচ্ছেন, নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় ঘনীভূত হওয়ার দু’দিনের মাথায় ভারতের মূল ভূখণ্ডে এসে পড়বে। এই দু’দিনে ঘূর্ণিঝড় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ সমুদ্রের উপর দিয়ে পার করবে।

আবহবিদদের মতে, কোনও ঘূর্ণিঝড় যত বেশি পথ সমুদ্রের উপর দিয়ে আসবে, তত বেশি জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে শক্তি বাড়ানোর অবকাশ থাকবে তার কাছে।

একদিনে তৈরি হওয়ার পর দু’দিনের মধ্যে স্থলভাগে ঢোকার জন্য ‘ইয়াস’ খুব বেশি সময় পাবে না। তবে সমুদ্রের ওপর দিয়ে ৭০০ কিমি পথে যথেষ্ট পরিমাণ জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করতে দু’দিনও কম সময় নয়। শেষ পর্যন্ত কোন দিকের পাল্লা ভারী হয়, তারই হিসাব কষছেন আবহবিদরা।

যদিও আবহবিদের কাছে সুপার সাইক্লোন এবং ‘অতি তীব্র’ ঘূর্ণিঝড় তীব্রতা ও ধ্বংস-ক্ষমতার দিক থেকে আলাদা হলেও দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলার মানুষদের কাছে তা একই রকম আতঙ্কের।

About Muktopata