Breaking News
Home / জাতীয় / মামুনুলকাণ্ডে কারাবন্দি হেফাজত নেতার মৃত্যু

মামুনুলকাণ্ডে কারাবন্দি হেফাজত নেতার মৃত্যু

ডেইলি বিডি বার্তা।। হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত হওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারির ইস্যুতে সহিংসতার মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দি হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫০) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সময় নিউজকে জানান, সোনারগাঁ থানায় চারটি মামলায় গ্রেপ্তার মাওলানা ইকবাল হোসেনকে অসুস্থ অবস্থায় গত ১১ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

সেখান থেকে জেলখানার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবাস চন্দ্র ঘোষ সময় নিউজকে বলেন, গত ১১ মে ইকবাল হোসেন নামের আসামিকে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের কাছে পাঠায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই তাকে চিকিৎসার জন্য আমরা ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি ফিরে আসেন। ১৫ মে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আবার তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। এতদিন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। তবে আজ দুপুর ১২টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইকবাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়। পরে আমাদের কাছে লাশ পাঠানো হলে আমরা কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।

আরও পড়ুন: ব্রিটেনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবাস চন্দ্র ঘোষ আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগ ও ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

কারাগারে আসার পূর্বেই তিনি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলছিলেন। এসব জটিল রোগের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে।

মাওলানা ইকবাল হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবার নাম আবু সাঈদ। তিনি সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে জুরাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব ১১ ব্যাটালিয়ানের একটি দল। পরে র‍্যাব সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, ইকবাল হোসেন গত ৩ এপ্রিল হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এক নারীসহ সোনারগাঁয়ের ‘রয়েল রিসোর্টে’ আটকের পর মসজিদের মাইকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে লোক জমায়েত করে হাম লা ভাঙচুর চালিয়ে তাণ্ডব চালায়।

তার নেতৃত্বেই ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল হোসেন সহিংসতা সৃষ্টির ব্যাপারে তার সম্পৃক্ততা ও ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।

About Muktopata

Check Also

দেশে ভাইরাল হওয়া সেই ইমাম এবার পেলেন ভাসমান মসজিদ

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের অসংখ্য …